গল্প

অভিজাত



নুসরাত সুলতানা


এই অভিজাত এলাকায় পাগলিটা যে কোথা হতে এলো? সকালে গোরুর মাংস ঝুরি, তেল ছাড়া পরোটা আর সবজি খেতে খেতেই নাফিস সাহেব স্ত্রীকে বলছিলেন।

ডলি হাসতে হাসতেই বলে, এলাকা অভিজাত পাগলিও অভিজাত। চোখগুলো কী সুন্দর! আর নাকটাও খাড়া।

আর কাপড়ও তেমন অপরিষ্কার না। নাস্তা শেষ করেই নাফিস সাহেব ডলিকে বলে, তোমার ড্রাইভারকে তো ছুটি দিয়েছ, আমি ড্রাইভার পাঠিয়ে দেব। মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে এস।

বের হওয়ার সময় ডলিকে ডেকে কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে, বাই হানি। ভালো থেকো সুইট হার্ট।

।। ০২ ।।

গাড়ির ড্রাইভার ছেড়ে দিয়েছে 'বেশিকিছু আশা করা ভুল'। নাফিস সাহেব একমনে ভেবে চলছেন, বউটা দিনে দিনে একটা আটার বস্তা হয়ে গেছে। আবার প্রতিরাতে সোহাগ চায় চুতমারানি । কিছু কইতেও পারি না। এই বাসি পাউরুটি আর খাইতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু কী বা করার আছে? শ্বশুরের টাকায়ই সব ব্যবসা, সম্পত্তি, সমাজের লোক যে মান-মর্যাদা দেয় সব! মাগি যদি একটু ব্যায়াম করত! বিয়ার সময় তো মোটামুটি সুন্দরীই ছিল। সারাদিন জি বাংলা দ্যাকবে আর বিরিয়ানি খাবে পেত্তেকদিন। শালি খাওয়া আর ঘুম ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। ঠিক এমন সময় পাগলি এসে নাফিস সাহেবের গাড়ির পাশে দাঁড়ায় আর মুচকি হেসে টাকা চায়। নাফিস তাকিয়ে দেখে আসলেই পাগলির চোখ মারাত্মক সুন্দর।

।। ০৩ ।।

রাত আটটায় নাফিস সাহেব বাসায় ফিরলে ডলি গলা ধরে বলে, এই আমরা আর মলিরা মিলে চল হাওয়া মুভি দেইখা আসি। এই সিনেমা নাকি অনেক সুন্দর।

নাফিস সাহেব রসিকতা করে বলে, যেতে পারি যদি আমার সুন্দরী শ্যালিকাকে আমার পাশে বসতে দাও।

আর মনে মনে বলে, শালার এই মলি শালিও বেশি সততা চোদায়। কতদিন কত ইঙ্গিত দিলাম, ডায়মন্ড আংটি, বিদেশে যাওয়া কত লোভ দেখালাম কোনো লাভ হয় না! আরে শালি! দুলাভাইয়ের সঙ্গে দু'এক রাত শুইলে কী অয়? ডাক্তারির অহংকার দেখায়! কোন ডাক্তারদের লাগাইয়া বেড়ায় কে জানে? আরে তোর মুটকি বইনডারে নিয়া যে সংসার করি তুই তো একটু পুষাইয়া দিতে পারিস! নাহ! মলির কথা মনে হলেই বুকের ভেতর চিনচিন করে ওঠে। শালির পাছা আর বুক দুইটাই দারুণ।

।। ০৪ ।।

ইদানীং রাত এগারোটা বাজলেই নাফিস সাহেব নীচে হাঁটতে চলে যায়। ডলি বিছানায় কিছুক্ষণ ছটফট করে ঘুমিয়ে যায়। নাফিস সাহেবের চেহারায় আজকাল প্রশান্তি খেলে যায়। বউকে ইদানীং ফুল, চকলেট উপহার দেয়। মধুর মধুর কথা বলে।

হঠাৎ করে একদিন ডলি বলে, কোন কুকুর, কোন বেজন্মা এই কাজ করল কে জানে? নাফিস সাহেব নির্লিপ্তভাবে বলে, কী হয়েছে বৌ? ডলি বলে পাগলির এত উঁচু পেট হইছে! নাফিস সাহেব বলে, ছি! ছি! পাগলির কাছে কোন কুকুর যায়?

।। ০৫ ।।

হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় পাগলি। অভিজাত এলাকার সূর্য নিয়ম করে উদিত হয়, অস্তও যায়।

এলাকার রোশনাই আরও বাড়ে। এলাকার লোকজন পাগলির কথা ভুলেই যায়। প্রায় বছর ছয়েক পর ওই এলাকার প্রায় সাথেই অবস্থিত বস্তি থেকে আসে এক নতুন বুয়া। সাথে আসে একটা সাত বছর বয়সি ছেলে। নাফিস সাহেব আজও নাস্তার টেবিলে। ডলি জিজ্ঞেস করে, বুয়া তোমার ছেলে? বুয়া বলে, হ খালাম্মা আমারই। এক পাগলির পোলা অইছিল আমাগো পোলাপান ছেল না। আমার স্বামী কয়, হুন গো নাসিমা এই পোলাডা আমরা নিই পালিপুষি। খালাগো মুরগি, বড়ো মাছ ছাড়া ভাত খায় না।

আমার স্বামী কয় ও রইছে বস্তিতে কিন্তু মাগার ওর রক্ত তো অভিজাত। নাফিস সাহেব নাসিমার হাতে হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে বলেন, ওকে স্কুলে ভরতি করে দিও।

ছেলেটা যখনই তাকায় ওই চোখ দেখে নাফিস সাহেবের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল রক্ত নেমে যায়। ঘামতে ঘামতে দেখে ওর কানের লতি।

পরিচিতি: কবি ও কথাসাহিত্যিক। সরকারি আধিকারিক। নিবাস: মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।